English

প্রবেশ করুন ₪ দিনাজপুরিয়া? সদস্য নন? যোগদিন



দিনাজপুর পৌরসভা

দিনাজপুর পৌরসভার ম্যাপ

দিনাজপুর পৌরসভা একটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। দৈনন্দিন নাগরিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে জীবন যাত্রাকে সহজ ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু। নির্বাচিত জন প্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত দিনাজপুর পৌরসভা নাগরিকদের সার্বক্ষনিক সেবা প্রদানে দায়বদ্ধ।

দিনাজপুর গেজেটিয়র মতে ১৭৮৩ সালে জেলা পর্যায় শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দিনাজপুর- রংপুর যুক্ত কালেক্টরেট ভেঙ্গে দিনাজপুর কালেক্টরেট প্রতিষ্ঠিত হয়। কোম্পানী কর্তৃক কালেকটরী শাসন প্রবর্তনের কিছুদিনের মধ্যে বিচার ও পুলিশ বিভাগ সৃষ্টি করা হয়। ধীরে ধীরে গড়ে উঠে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পূর্ত ও ডাক বিভাগ। এরপর, এই শহরকে কেন্দ্র করে ১৮৬৯ সালে গঠিত হয় দিনাজপুর পৌরসভা।

দিনাজপুর পৌরসভা গঠনের পূর্বে ১৮৫৬ সালে একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটকে শীর্ষ রেখে গঠিত পঞ্চায়েত বা টাউন কমিটির তত্ত্বাবধানে নগর শুল্ক আদায়, নগর পাহারা, পথ ঘাট পরিষ্কারকরন, সড়ক সমূহে খরা মৌসুমে পানি সিঞ্চন ও সড়কে আলোকদান কার্যক্রম শুরু হয়। এ পর্যায়ে দিনাজপুর শহর সহ প্রায় ৪০ টি পুরাতন শহরে এই শ্রেনীর পৌর শাসনের ব্যবস্থাধীনে নীত হয়। ১৮৬৪ সালে আর একটি অধ্যাদেশ বলে পৌর সংস্থাগুলোকে আরো কিছু স্বায়ত্বশাসন দেয়া হয়। এখন থেকে পৌর সংস্থার নাম হয় গভর্নিং বডি যা সরকারী কর্মচারী ছাড়াও সরকার মনোনিত জন সাধারন নিয়ে গঠিত হয়। সরকার নিয়ন্ত্রিত এই গভর্নিং বডির শীর্ষে থাকতেন একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। ১৮৬৮ সালে পুনরায় সংশোধনের মাধ্যমে ডিস্ট্রিক টাউন এ্যাক্ট পরিবর্তিত হয়। এ সময় থেকে পৌর শাসন সংস্থা মিউনিসিপ্যালিটি নামে অবহিত হয়। ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের পরিবর্তে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে সর্বময় কর্তা করে চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টি করা হয়। উক্ত ধারা মতে ১  এপ্রিল, ১৮৬৯ সালে দিনাজপুর মিউনিসিপ্যালিটি গঠিত হয়। পদাধিকার বলে এর প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন তৎকালীন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মি: প্যাটারসন।

১৮৭৯ সালে পরীক্ষামূলক ভাবে দিনাজপুর পৌরসভায় একটি ওয়ার্ডে সার্ভিস পায়খানা প্রবর্তন করা হয়। ১৮৮০ থেকে ১৮৯০ সালের মধ্যে পৌর এলাকার সব ওয়ার্ডে সার্ভিস পায়খানা চালু করা সম্ভব হয়। এজন্য সুদূর লক্ষ্ণৌ থেকে মেথর নিয়ে আসা হয়।

শুরুতে পৌরসভার রাস্তা গুলো কাঁচা ছিলো। তখন রাস্তা পরিষ্কার রাখার জন্য নিয়মিত পানি ছিটানোর ব্যবস্থা ছিলো। বর্তমানে পৌরসভার অধিকাংশ পথ পাকা। তাই ধূলি অফিসারের পদ এখন বিলুপ্ত। পৌরসভার পরবর্তী পদক্ষেপ ছিলো সড়কে আলোক দান। যদিও দিনাজপুর শহরে ১৮৫৫ সাল থেকে এ কার্যক্রম চলে আসছিলো পৌরসভা গঠনের পর দায়িত্বটি পৌরসভার উপর বর্তায়। দীর্ঘ ১০৮ বছর ল্যাম্প পোষ্টে কেরোসিনের বাতি ব্যবহার করা হয়। ১৯৬২ সালে এখানে বিজলী বাতির প্রচলন শুরু হয়।

১৮৭৯ সাল থেকে পৌরসভায় টিকা দান কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় পৌরসভার মধ্যে ম্যালেরিয়া, কলেরা, বসন্ত ও কালোজ্বর রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তো। মশার উৎপাত কমানোর জন্য ১৮৫২ ও ১৮৯৩ সালে দুইবার ঘাঘরা ক্যানেল সংস্কার করা হয়। ১৮৯২ সালে সদর হাসপাতাল তৈরী হয়। প্রথম অবস্থায় এই হাসপাতালে পৌরসভার অর্থে পরিচালিত হতো।

প্রাথমিক অবস্থায় পৌরসভার কোন গঠনতন্ত্র ছিল না। প্রচলিত নিয়মানুসারে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের ইচ্ছানুক্রমে আহুত সভায় প্রসতাব ও সর্মথনক্রমে নির্বাচিত ও তদানিন্তন বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক মনোনীত সদস্যগনদের নিয়ে পূণাঙ্গ পৌরসভা কমিটি গঠিত হতো। সদস্য সংখ্যারও কোন নির্দিষ্ট সীমা বাঁধা ছিল না । পৌরসভা  কমিটির মেয়াদ ছিল ৩ বছর। ১৮৮২ সালে বৃটিশ ভারতের গর্ভনর জেনারেল লর্ড রিপন লোকাল সেলফ গভর্নমেন্ট নামে একটি অধ্যাদেশ প্রবর্তন করেন। ১৮৯৭ সালে সরকারি অধ্যাদেশের বলে পৌরসভা গুলোকে পূর্ণ স্বায়ত্ব শাসিত সংস্থার মর্যাদা দেওয়া হয়। এই অধ্যাদেশে কর দাতাদের ভোটে পৌর কমিটি ও পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচনের বিধান চালু হয়। এর প্রেক্ষিতে ১৮৯১ সালে সরকারী নিয়ন্ত্রনমুক্ত পৌরসভার সাধারন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। করদাতাদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে দিনাজপুরের তৎকালীন মহারাজা গিরিজানাথ রায় পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হন। প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলা স্কুলের একটি কক্ষে পৌরসভার দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালিত হতে থাকে। ১৯০৩ সালে বর্তমান পৌরসভা ভবনটি নির্মিত হয়।

শতাব্দীর পুরাতন পৌরসভার অস্তিত্ব যে গঠনতন্ত্রের উপর প্রতিষ্ঠিত ১৮৯৭ সালে তার খসড়া প্রস্তুত হয়। জেলা ইঞ্জিনিয়ার এবং পৌরসভার সদস্য জনাব বসন্ত কুমার দাসের প্রণিত প্রায় ৫৪ টি ধারা সম্বলিত খসড়া গঠনতন্ত্র তৎকালীন চেয়ারম্যান হরিমোহন সিংহ চৌধূরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অনুমোদিত হয়। পরবর্তী সময়ে এর পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংশোধন করা হয়।

পূর্ণ স্বায়ত্বশাসন পাওয়ার পর থেকে পৌরসভার কর্মপরিধি বাড়তে থাকে। বিশিষ্ট আইজীবী ও প্রভাবশালী নেতা পরমেশ্বর দাঁ (১৯০৩-০৯) চেয়ারম্যান থাকাকালীন  সময়ে পৌরসভার কার্যাবলীকে  কিছু নির্দিষ্ট কর্ম বিভাগে ভাগ ও সমপ্রসারিত করা হয়। যেমন-
ক) প্রশাসনিক বিভাগ
খ) জনস্বাস্থ্য ও পরিষ্কার পরিচ্ছনতা বিভাগ
গ) শিক্ষা বিভাগ
ঘ) কর নিরূপন ও আদায় বিভাগ ইত্যাদি

দেশ ভাগের পর ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান কর্তৃক সামরিক শাসন জারির ফলে পৌরসভার স্বাযত্বশাসন ব্যহত হয়। আইয়ুব শাহীর মৌলিক গনতন্ত্রের ফলে পৌরসভাগুলো সরকারী অফিসার শাসিত সংস্থায় পরিনত হয়। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৪ সালে পৌরসভা জনপ্রতিনিধি নির্বাচন ব্যবস্থার পুন: প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সময়ে আরো দুটি বিভাগ বর্ধিত করা হয়-
ঙ) উন্নয়ন বিভাগ (Development Division)
চ) কর্মবিভাগ (Work Division)

১৯৮২ সালের পর মাঝে মধ্যে পৌর প্রশাসকদের দেখা গেলেও ১৯৯৩ সাল থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগন পাঁচ বছর মেয়াদে পৌরসভার নির্বাহী দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

দিনাজপুর পৌরসভার চেয়ারম্যানগনের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রটির নাম যোগীন্দ্র চন্দ্র চক্রবর্তী। তিনি দুই মেয়াদে সর্বোচ্চ ১৫ বছর পৌর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর আমন্ত্রণে মহাত্না গান্ধী দিনাজপুরে এসেছিলেন। আবার,  বৃটিশ গভর্নর জন এন্ডারসন দিনাজপুরে আগমন করলে পৌরসভা কর্তৃক আয়োজিত অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান বয়কটের ঘটনা এই স্বদেশী নেতা দ্বারা পালিত হয়। এমনকি, চেয়ারম্যান না থাকা কালেও পৌরসভার সমস্যা সমাধানে তৎকালীন পৌর পরিষদকে তাঁর দ্বারস্থ হতে দেখা যায়।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে চেয়ারম্যান ও পৌর প্রশাসকগন পৌরসভার নির্বাহী প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে পৌরসভার নির্বাহী প্রধানের পদবী মেয়র। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত মোট ৪৬ জন ব্যক্তি নির্বাহী প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে ৩৮ জন এক মেয়াদে, ০৫ জন দুই মেয়াদে এবং ০২ জন তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। উল্লেখিত নির্বাহী প্রধানের মধ্যে ১৬ জন সরাসরি জনগনের ভোটে নির্বাচিত, ২৯ জন সরকার কর্তৃক মনোনিত এবং একজন পৌর পরিষদ কর্তৃক মনোনিত।

প্রশাসন, প্রকৌশল এবং স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও পরিচ্ছন্নতা বিভাগের আওতায় ১০ টি শাখার সমন্বয়ে সাধারন জনগনকে পৌর সেবা দেয়া হয়। এর পাশাপাশি, দিনাজপুর পৌরসভায় বর্তমানে কেয়ার শহর প্রকল্প, মিউনিসিপ্যাল হেলথ পার্টনারশিপ প্রোগ্রাম (এম এইচ পি পি), ডি টি আই ডি পি, ইউ পি পি আর পি এবং ইউ জি আই আই পি- ২ প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

মন্তব্যে আপনার ছবি দেখাতে প্রবেশ করুন অথবা গ্রাবতার/ ওয়ার্ডপ্রেস একাউন্টে ব্যবহৃত ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করুন। সাইট সংক্রান্ত মন্তব্য/পরামর্শের জন্য দয়াকরেঅতিথি বই-এ লিখুন।


স্প্যামরোধী কোড
আবার দেখান

কিভাবে অবদান রাখবেন?

পরিচালনা দল

অনুদান করতে

Dutch-Bangla Bank Ltd.
DINAJPURINFO.COM
172.110.3968

You are not logged in. Please log in to use User features, or sign up.