|
আপনি ছিলেন আমাদের ছাত্রদের কাছে আতঙ্ক। আপনি আর আপনার সেই বাশের বাতাটার কথা আমি ভুলিনি, ভূলব না। মনে পড়ে, দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণীতে থাকাকালীন একবার আমাদের বাসার পেয়ারা গাছে উঠে প্রসাব করেছিলাম। সেই খবর কিভাবে যেন আপনার কাছে চলে গিয়েছিল। এবং আপনার বাতাটা বজ্রের মত আমার গায়ের যত্রতত্র পড়েছিল। আরো একবার যেন কি কারণে আপনি আমাকে আর আমার পাড়াতো এক চাচাকে (আমরা একই ক্লাসে পড়তাম) বেশ মেরেছিলেন। ঐচাচার বাবা ও ভাই সেটা ভালভাবে নেয়নি এবং তারা আপনাকে অনেক উল্টাপাল্টা শুনিয়েছিল, আমার বাবা-মার কাছেও এসেছিল আমাকে মেরে ছাল তুলে দেয়ার প্রতিবাদ না করায় ভৎসনা করেছিল ওরা। জানিনা কেন যেন সেই সহপাঠী চাচার লেখাপড়া তারপর কয়েকক্লাসের বেশী এগোয় নি। পরে শুনেছি এবং দেখেছি তিনি আন্তঃ সীমান্তের ব্যবসায়ী হয়েছিলেন; ভারত থেকে এটা ওটা এপাশে আনতেন, এপার থেকে কিছুমিছু ওপারে নিতেন।
স্যার, শুনলাম কদিন আগে ছাত্রকে মারার দায়ে এক স্কুলশিক্ষককে খুব মেরেছে ছাত্রটির বাবা, ভাইরা। কি নাকি এক আন্তর্জাতিক আইন আছে ছাত্রদের গায়ে হাত তোলা যাবে না। স্যার আপনি কি জানেন যে এসব আইন যেসব দেশ থেকে এসেছে সেসব দেশের সংস্কৃতি, লেখাপড়ার পদ্ধতি অন্য? সেসব দেশে ক্লাসে বসে সিগারট, চিপস খাওয়া যায়, গান শোনা যায়, আবার স্যারের অনুমতি না নিয়েই যখন খুশী শ্রেণকক্ষে ঢোকা বা বের হওয়া যায়, সীটে বসেই স্যারের সঙ্গে কথা বলা যায়- দাড়িয়ে সম্মান দেখানো লাগেনা। স্যার আপনি তো গ্রামের স্কুলের শিক্ষক, এখন অনেক বয়স হয়েছে - হয়তো জানেন না সেসব দেশের স্কুল গুলোতে ৩০শতাংশের মতো কিশোরী মা রয়েছে।
স্যার, জানিনা কেন যত বড় হচ্ছি আপনাকে তত মনে পড়ছে, বিশেষকরে যখন থেকে বুঝতে শিখেছি।
স্যার, আপনি কি বেঁচে আছেন? যদি বেঁচে থাকেন আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবি ও সুখী করুন। যদি ইন্তেকাল করে থাকেন, আল্লাহ আপনার কবরকে জান্নাতের টুকরায় পরিণত করুন। (আমিন)
 |