দিনাজপুর পরিচিতি


দিনাজপুর জেলা
অবস্থানঃ অক্ষাংশ ২৫.৬৩৩৩° ‌ও দ্রাঘিমাংশ ৮৮.৬৩৩৩° | সময়াঞ্চলঃ +৬ | উচ্চতাঃ সমূদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৭.৬ মিটার পোষ্ট কোড:৫২০০ | ফোন কোড: ০৫৩১

দিনাজপুর জেলা (Dinajpur) বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলাগুলির একটি যা রংপুর বিভাগের অন্তর্গত। পৌরাণিক কিংবদন্তীর লীলাভূমি এই জেলাকে বলা হয় বাংলাদেশের সবুজ শস্যের ভান্ডার। বিস্তীর্ণ সমতল ও উর্বর এই জেলা একদা পুন্ড্রবর্ধনের বৃহদাংশ ছিল এবং পরবর্তীতে ব্রিটিশ আমলের স্বল্প সংখ্যক মানুষের আবাসস্থল থেকে উন্নতি ও পরিবর্তনের পর ১৯৪৭ সালে বঙ্গভঙ্গ -এর সময় ১ম দফা বিভাজিত হয়ে (বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে) এবং  বাংলাদেশের অংশটি ১৯৮৪ সালে আরেক দফা বিভাজিত হয়ে পঞ্চগড়ঠাকুরগাঁও জেলার জন্মদান এবং রংপুরনিলফামারী জেলাগুলোকে কিছু অংশ প্রদানের মাধ্যমে আজকের দিনাজপুর জেলার আবির্ভাব।

সীমাঃ

উত্তরে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নিলফামারী জেলা, দক্ষিণে জয়পুরহাট জেলা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বে রংপুর ও নিলফামারী জেলা এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যর পশ্চিম দিনাজপুর (উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাদ্বয়)।

নামকরণঃ

দিনাজপুর জেলার নামকরণ নিয়ে যেমন অনেক ঐতিহাসিক মতবাদ আছে তেমন আছে একাধিক কিংবদন্তী। ধারণা করা হয় প্রতাপশালী ব্যক্তি দানূজ রায়ের নাম হতে দিনাজপুর নামটি এসেছে। অন্যদিকে কারো মতে পঞ্চদশ শতকের প্রথমার্ধে উত্তর বাংলার রাজা গণেশ যখন গৌড়ের সিংহাসনে আরোহন করেন তখন “দনুজ মর্দন দেব” বা”দানূজ মর্দন দেব” উপাধি ধারন করেন। পরবর্তীতে এই উপাধি থেকে দিনাজপুর নাম হয়। তবে মেহরাব আলী ঐতিহাসিক তত্ব দ্বারা এই নামকরণের উৎপত্তিকে ভিত্তিহীন প্রমাণ করেন। বুকানন অনুমান করেন “দিনাজ” বা “দিনাওয়াজ” নামক কোন রাজকীয় ব্যক্তির নাম হতে জেলার নামটি এসেছে। বলাবাহুল্য, এই রাজকীয় ব্যক্তির কোন ঐতিহাসিক সন্ধান পাওয়া যায় না। যাহোক স্থানীয়ভাবে প্রচলিত হিন্দু কিংবদন্তী মতে দিনা নামক একজন ব্রান্মনের রাখাল অথবা মুসলিম ঐতিহ্য মতে দিনা নামক একজন ফকিরের নাম হতে এই স্থানের নাম দিনাজপুর হয়েছে। এসব বিভিন্ন মতবাদকে গোলমেলে মনে হলেও দিনাজপুর রাজবংশের সাথে দিনাজপুর নামটির সম্পর্ক সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। দিনাজপুর নামে একটি মৌজা ছিল এবং কোম্পানী আমলে কাগজ কলমে এই নামটি প্রথম ব্যবহৃত হলেও ভৌগলিককভাবে মৌজাটি অনেক প্রাচীন। আর এখানেই ছিল রাজবাড়ী। যেহেতু রাজবাড়ী যে মৌজায় অবস্থিত তার নাম দিনাজপুর তাই রাজার সন্মানার্থে এই জেলার ও শাসনাধিকরণ শহরটির নাম হয় দিনাজপুর।

আয়তনঃ

৩৪৩৭.৯৮ বর্গ কিলোমিটার

জনসংখ্যাঃ

২৬৪২৮৫০ (পুরুষ-১৩৬৩৮৯২, মহিলা-১২৭৮৯৫৮)

শিক্ষার হারঃ

৪৫.৭%

গড় তাপমাত্রাঃ

সর্বোচ্চ ৩৫.৫° সেঃ থেকে সর্বনিম্ন ১০.৫°সেঃ

বৃষ্টিপাতঃ

২৫৩৬ মিলিমিটার

নদনদী

পূণর্ভবা, আত্রাই, ঢেপা, টাঙ্গন।

ঐতিহাসিক ও দর্শণীয়

কান্তজীউ মন্দির, দিনাজপুর রাজবাড়ী, জাদুঘর, রামসাগর, সুখসাগর, মাতাসাগর, চেহেল গাজীর মাজার, সীতার কুঠুরী, হাবড়া জমিদার বাড়ী, গৌড় গবিন্দ, বারোদুয়ারী, নয়াবাদ মসজিদ, আওকরা মসজিদ।

ব্যাক্তিত্ব

হাজী মোহাম্মদ দানেশ, শেখ ফজলুল করিম (সাহিত্যিক), ফকির মজনুশাহ, অধ্যাপক ইউসুফ আলী, বেগম খালেদা জিয়া, খুরশীদ জাহান হক।

উপজেলা

১৩টি – দিনাজপুর সদর, খানসামা, নবাবগঞ্জ, বিরামপুর, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট।

পৌরসভাঃ৬টি
ওয়ার্ডঃ
৫৭টি
মহল্লাঃ
২০৪টি
ইউনিয়নঃ
১০১টি
মৌজাঃ:
২০২০টি
গ্রামঃ
২১৪৩টি
বাড়ীঃ
৫৭৯৯২৯টি

দিনাজপুর জেলা – তথ্যসূত্র বাংলাপিডিয়া, দিনাজপুরের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধে দিনাজপুর ও পরিসংখ্যান-২০০৭

Scroll to Top